রক্তখেকো

মনে করুন আপনি আপনার বাড়িতে কিছু মুরগী পোষেন। মাঝেমধ্যে বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে শিয়াল এসে আপনার মুরগী খেয়ে ফেলে। শিয়ালের হাত থেকে মুরগী রক্ষা করতে আপনি একটা কুকুর পোষতে শুরু করলেন। মাঝেমধ্যে মাঝরাতে বাড়িতে শিয়াল মুরগী চুরি করতে এলে আপনার দায়িত্বশীল কুকুর সেই শিয়ালকে আঁচড়ে কামড়ে তাড়িয়ে দেয়। এভাবে শিয়ালের কিছুটা রক্ত মাংস আপনার কুকুরের দাঁতে লেগে যায়। আর আস্তে আস্তে কুকুরটি রক্ত মাংসের লোভে পড়ে যায়। কুকুরের হামলায় শিয়াল মরতে থাকে। আপনি কুকুরের দায়িত্বশীল আচরণে আনন্দে বাকবাকুম।

একদিন দেখা গেলো আপনার বাড়ির পাশের জঙ্গলে আর কোন শিয়াল নেই। কিন্তু মাংস আর রক্তের নেশায় আপনার কুকুরটা সারাদিন এদিকসেদিক শিয়াল খুজে বেড়ায়। কিন্তু খাবার মতো রক্ত মাংসের শিকার খুজে পায়না। কিন্তু দিনদিন মাংস আর রক্তের নেশায় পাগল হয়ে যায় আপনার আদরের কুকুর।

একদিন মাঝরাতে আচমকা আপনার ঘুম ভেঙ্গে গেলে আপনি টের পেলেন আপনার বুকের উপর কেউ চেপে বসেছে। উঠতে গিয়ে দেখলেন আপনার আদরের কুকুর আপনার বুকের উপর বসে নখ আর দাঁত কেলিয়ে হিংস্র আওয়াজ করছে। আপনি আতংকে চিৎকার করে বলছেন “আমি তোর মালিক”
আপনার আদরের কুকুর দাত কিড়মিড় করে চিৎকার করে বললো
“তুই একটা শিয়াল”
আপনি জীবন বাঁচাতে কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করছেন “আমি তোর মালিক”
কুকুর রক্ত আর মাংসের নেশাকে জায়েজ করতে চিৎকার করছে
“না তুই আমার মালিক না। তুই একটা শিয়াল”

Leave a Reply

Your email address will not be published.