বাবার খোঁজে

 

মেয়েটার নাম আসমা। আসমার বয়স যখন চার মাস তখন ওর বাবা মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়। বাবাকে কেন্দ্র করে আসমার কোন স্মৃতি নেই। মা’কে কেন্দ্র করেই ওর জগত।

আসমার জিগরী বান্ধবী সায়েরা। সায়েরার সাথে প্রাইমারি থেকে ভার্সিটি পর্যন্ত একসাথে চলা। প্রায়ই সায়েরার সাথে ওদের বাড়িতে যায় আসমা। সায়েরার বাবা মা আসমাকে ভীষণ আদর করেন।

 

আসমা যখন থার্ড ইয়ারে পড়ে তখনকার একটা দিন। আসমার ভীষণ মন খারাপ, কারণ সেদিনই ওর প্রেমিক ওকে জানিয়ে দিয়েছে যে কোনভাবেই বিয়ে করা সম্ভব না। কেননা আসমার বাবা নেই, আসমা একটা ডিভোর্সি পরিবারের সন্তান এটা প্রেমিকের মা মেনে নিচ্ছেন না। তিন বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাবার কষ্টে আসমা বারবার একটা কাঁধ খোঁজে একটু কাঁদার জন্য। আর আসমার কাছে সবচেয়ে স্বস্তি তো সায়েরার কাঁধে। সায়েরাকে বারবার কল দেয়, রিং হয় কিন্তু রিসিভ হয় না। আসমা সোজা চলে যায় সায়েরার বাসায়। গিয়ে জানতে পারে সায়েরা ওর মায়ের সাথে শপিং এ গিয়েছে। এবং ভুল করে মোবাইল বাসাতেই রেখে গেছে। সায়েরার বাবা বাসাতে একাই আছেন। তবে অনেকটা সময় হয়েছে শপিং এ যাবার, দ্রুতই চলে আসবে সায়েরা, একারণে আসমাকে অপেক্ষা করতে বলে সায়েরার বাবা। আসমা চলে যেতে চেয়েও অপেক্ষা করে সায়েরা ফিরে আসার।

 

(এরপর থেকে ঘটনাটাকে আমি অনেকটা ডিটেইলসে লিখতে পারি কিন্তু লিখছিনা। কেননা আপনাকে ধর্ষণের ভেতর ফ্যান্টাসি খুঁজে মাস্টারবেড করার সুযোগটা আমি দিতে চাচ্ছিনা।)

 

হ্যা সেখানে অনেকটা আত্মরক্ষার চেষ্টা অনেকটা ধ্বস্তাধস্তির পরেও আসমা ব্যর্থ হয় সায়েরার বাবার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে। আসমা ধর্ষিত হয়ে হাজার বছরের ক্লান্তি মাথায় নিয়ে নিজের বাসায় ফিরে আসে।

ফিরে এসে আসমার মনে হয় ওর আসলে বিশ্রাম নেয়া দরকার। একটা ঘুম দরকার। এটা ভেবে আসমা ঘরে থাকা ওর ছাদবাগানের কিটনাশক নিজের গলায় ঢেলে দেয়। কারো বিরুদ্ধে ওর কোন অভিযোগ থাকেনা আর।

আসমার মা আসমার আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাটা দ্রুতই জানতে পেরে আসমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। আসমা জ্ঞান আর অজ্ঞান একটা অবস্থার মাঝামাঝি ঝুলতে থাকে। বলা যায় ঝুলতে থাকে জীবন আর মৃত্যুর মাঝে। ডাক্তাররা অনিশ্চিত। এই সংবাদ শুনে সায়েরা হাসপাতালে ছুটে আসে। সায়েরার খুব অসহায় আর ভয় লাগছিলো প্রিয় বন্ধুর এই অবস্থা শুনে। তাই একা আসতে সাহস পাচ্ছিলো না। তাই বাবাকে একরকম জোর করেই ঘুম থেকে তুলে নিয়ে এসেছে। ওর বাবা এক তৃপ্তিময় ঘুম ছেড়ে আসতে চায়নি।

 

সায়েরা আসমার কাছে যায়। আসমাকে জানায় যে সায়েরার বাবাও এসেছে আসমাকে দেখতে। আসমা ঘোরলাগা চোখে সায়েরাকে অনুরোধ করে একবার সায়েরার বাবাকে আসমার কাছে নিয়ে আসতে। সায়রা দ্রুত গিয়ে বাবার হাত ধরে টেনে আসমার সামনে নিয়ে আসে। আসমা হাতের ইশারায় সায়েরাকে বাহিরে যেতে বলে। সায়েরা চলে যায়। যদি কোন অপ্রীতিকর কিছু করে বসে আসমা এই ভয়ে সায়েরার বাবা আতঙ্কিতবোধ করে। আসমা হাতের ইশারাই সায়েরার বাবাকে কাছে ডাকে। কাছে গেলে আসমা সায়েরার বাবার হাতটা ধরে ফেলে। আর দীর্ঘ দীর্ঘ শ্বাস টেনে বলে

 

“আমি সায়েরার সাথে আপনাদের বাসায় যেতাম শুধু সায়েরার জন্য না। আমি আপনার জন্যেও যেতাম। আমি আপনাকে দেখতে যেতাম। আমি আপনার কণ্ঠ শুনতে যেতাম। কারণ আমি তো জানিনা বাবা কেমন হয়। আমি আপনাকে দেখে দেখে বাবা দেখার সুখটা নিতাম। সায়েরার সাথে আপনার কথা বলা আদর করা দুষ্টামি করা সব দেখতাম আমি। আর আমার বারবার ইচ্ছে হতো একবার আপনাকে বাবা বলে ডাকতে। লজ্জায় কখনো বলতে পারিনি। আপনি আমার সাথে যা করেছেন আমি সেটা কাউকে বলবো না। বিনিময়ে আপনি একটা ইচ্ছে পুরণ করে দেবেন প্লিজ”

 

সায়েরার বাবা অস্বস্তিবোধ করছে যে আসমা কি দাবী করে বসে। হাতটা ছাড়িয়ে নিতে চাচ্ছে কিন্তু জোর করে ছাড়াতেও পারছেনা। কেননা বাহির থেকে গ্লাসের ওপাশ থেকে এদের দিকেই তাকিয়ে আছে সায়েরা।

আবার কথা বলে আসমা

 

“আপনাকে বেশি কিছু করতে হবেনা। আমি আপনাকে একবার বাবা বাবা বলে ডাকতে চাই। আমি কোনদিন কাউকে বাবা ডাকিনি। আমি আপনাকে বাবা বাবা বলে ডাকবো আর আপনি আমার কপালে হাত রেখে খালি একবার আমাকে সাহস দিয়ে বলবেন

‘এইতো মা আমি তোর পাশেই আছি। তোর কিচ্ছু হবেনা। যার পাশে বাবা থাকে তাদের খারাপ কিছু হয়না….”

 

বিঃদ্রঃ আসমা দুদিন হাসপাতালে থেকে লড়াই করে মারা যায়।

আসমার মৃত্যুর দুদিন পরে এগারো তলা বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে সায়েরার বাবা।

সবাই জানে প্রেম ভেঙে যাওয়ায় আত্মহত্যা করেছে আসমা। কিন্তু সায়েরার বাবা কেনো আত্মহত্যা করেছে সেটা ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.