যশোর রোড

সেদিন অগ্রদূত হাইস্কুলের মাঠের উত্তর দিকে যে পুকুরটা আছে সেই পুকুরের শান বাধানো ঘাটে বসে ঘটনাটা আমার এক বন্ধুকে বলছিলাম।
একাত্তরের গণহত্যা আর মৃত্যুর মিছিলের পাশ দিয়ে আলগোছে সাবধানী পা ফেলে আরেকটা মিছিল চলে গিয়েছিলো যশোর রোড হয়ে ভারতীয় বর্ডারের দিকে।
সেই মিছিলেই ছিলো অংশুমান, ওর স্ত্রী মালতী,আর ছয় বছরের শিশুপুত্র অনু। মনিরামপুর হয়ে যখন ওরা পালাচ্ছিলো জীবন বাঁচাতে। তখন এক রাতে যাত্রা বিরতি দিলো মনিরামপুরের এক স্কুল ঘরে। সেদিন রাতেই আচমকা কি যে হলো অংশুমানের। মধ্যরাতে ক্লান্তিতে ছেলেকে বুকে চেপে একটু তন্দ্রার মতো এসেছিলো। মালতীর। এমন সময় আচমকা মালতীকে ডেকে তুললো অংশুমান। মালতী ভেবেছিলো পাক বাহিনী হামলা করেছে। ধরফর করে উঠে বসলো। অংশুমান মালতীর মুখ চেপে ধরলো
চুপ শব্দ করিস না বেবাকতে জাইগা যাইবো
মালতী চেয়ে দেখে পাশেই দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বদি ভাই। আজকে রাতে এই স্কুলে আশ্রয় নেয়ার পর পরিচয় হয়েছিলো বদির সাথে। বদি’রাই এদেরকে এখানে আশ্রয় দিয়েছে। বদির পাশেই দাঁড়িয়ে আছে হরিচরণ। মালতীদের গ্রামেরই যুবক ছেলে। একসাথেই রওনা হয়েছে জীবন বাচাতে ভারতের পথে। মালতী অবাক হয়ে অংশুমানের মুখের দিকে তাকায়। অংশুমান মালতীর মুখ থেকে হাতটা আলগা করে দেয়
ঘটনাটা এই পর্যন্ত শুনেই আমার বন্ধুটি বললো
‘বউরে মুক্তিবাহিনীর হাতে তুইলা দিলো? হায়রে মালাউনের দল। ওগো কোন ধর্ম আছেনি’
আমি বন্ধুকে থামিয়ে দিয়ে আবার ঘটনাটা বলতে শুরু করলাম।
অংশুমান মালতীকে ফিসফিস করে বললো
‘বউ এমনে পলাইয়া যাইতে মনডায় সায় দিতাছে না। তুই অনু’রে লইয়া ওইপাড়ে চইলা যা। আমি যুদ্ধে যামু। দেশ স্বাধীন হইলে হেরপর তোগোরে ফিরত লইয়া আইমু’
মালতী স্বামীর কথা শুনে চমকে উঠলো
‘এইডা কি কও! আমরা না একলগে ওইপাড়ে যাওনের লাইগা রওনা দিলাম। তুমি না গেলে আমিও যাইমুনা’
অংশুমান বৌয়ের হাতটা চেপে ধরে বললো
‘তুই না করিস না বৌ, দেশটা বাচাইতে হইবো না ক? তুই অনুরে বাচা, আমি দেশ বাচাইতে যামু’
‘যুদ্ধে যদি তোমার কিছু হইয়া যায়?’
‘আরে কিছু হইবো না। আমার লগে তো হরিচরণ যাইতাছে। আবার বদি ভাই হেরাও আছে। চিন্তা করিস না। দেরি হইয়া যাইতাছে। বদি ভাই আমারে এহন কমান্ডারের কাছে লইয়া যাইবো। কমান্ডারে যদি আমারে হেগো দলে নেয় তাইলে যুদ্ধে যামুগা। আর না নিলে ফজরের আজানের সময় সবাই রওনা দেওনের আগেই তোগো কাছে ফিররা আইমু। তুই থাক। অনুরে দেইখা রাখিস’
মালতীকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই অংশুমান স্কুল ঘরের দরজা দিয়ে অন্ধকারে মিশে যায়। সাথে যায় বদি আর হরিচরণ। মালতী বোবা চোখে দরজার দিকে তাকিয়ে চাটাইয়ের উপর বসে থাকে। মালতীর একটা হাত অনুর বুকের উপর।
মালতী এভাবেই বসে থাকে ফজরের আজান পর্যন্ত। আজানের শব্দের সাথে সাথেই সবাই উঠতে শুরু করে যারা আলসেমি বা ক্লান্তিতে উঠছিলো না। তাদেরকে জমির মুন্সী ডেকে ডেকে তুলছিলো। সবাই দ্রুত প্রস্তুত হতে লাগলো আবার যাত্রা শুরুর। মালতী চারদিকে চোখ মেলে সবার প্রস্তুতি দেখছিলো। কিন্তু ওর কোন প্রস্তুতি নেই। দুই একজন এসে মালতীকে দ্রুত প্রস্তত হতে বললো। ছেলেকে কোলে তুলে রওনা হতে বলে গেলো একজন
‘অনুর বাপ একটু বাইরে গেছে হে আইলেই রওনা দিমু’
বলে সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছে মালতী। মালতী অংশুমানের অপেক্ষা করে। স্থির বসে থেকে অপেক্ষা করে সকাল সাতটা পর্যন্ত। স্কুলে আশ্রয় নেয়া শরনার্থীদের সকলেই রওনা হয়ে গেছে আরো দের ঘন্টা আগেই। স্কুল ঘরে অনুকে বুকে নিয়ে একা মালতী অপেক্ষা করে। এমন সময় মুক্তিবাহিনীর একজন নাম না জানা ছেলে এসে মালতীকে বলে যায়
‘অংশুমান দা গেরিলা দলের সাথে ফরিদপুরের দিকে চইলা গেছে’
এই কথা শোনার পর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছেলেকে কোলে তুলে উঠে দাঁড়ায় মালতী। পথে একেকজনের কাছে বর্ডারের পথের দিক জিজ্ঞাসা করে এগুতে থাকে মালতী। অনু দুই একবার প্রশ্ন করে
‘বাবায় কই?’
‘তোর বাপ যুদ্ধে গেছে’
‘যুদ্ধ কই মা? ‘
‘এতো কতা কস কেন। চুপ কইরা থাক’
পথ চলতে চলতে কতটা এসেছে সেটা ঠিক মনে নেই মালতীর। মাঝখানে কয়েকবার বসে জিরিয়ে নিয়েছে। অনুর ক্ষুধায় কাঁদতে শুরু করলে এক বাড়ি থেকে দুইটা লাল আটার রুটি পানিতে ভিজিয়ে খাইয়েছে। তারপর থেকে অনু চুপ করে কখনো হেঁটে কখনো মায়ের কোলে চড়ে এগিয়ে চলছে। তখন আসর পেড়িয়ে মাগরিবের সময় হবে হবে করছে। এমন সময় একটা পাক বাহিনীর জিপ মালতীদেরকে পাড় হয়ে চলে যায়। আচমকা পাক বাহিনীর জিপ দেখে ভয়ে মালতীর গলা শুকিয়ে কাঠ। জিপটা পেড়িয়ে যেতেই মালতী হরি নাম জপ করে অনুকে বুকের সাথে চেপে ধরে হাঁটতে শুরু করে। মালতী বুঝতে পারেনি যে খুব বেশি হাঁটতে হবেনা ওকে। পাকবাহিনীর জিপের পেছনেই আরেকটা জিপ ছিলো। সেটা এসে মালতীর গা ঘেঁসে থামে । জিপ থেকে লাফ দিয়ে নেমে আসে দুজন পাক সেনা। তাদের পেছন পেছন নেমে আসে দুইজন টুপি আর পাঞ্জাবী গায়ে রাজাকার। একজন পাক সেনা রাইফেল তাক করে ধরে রাখে মালতীর দিকে। জিপের সামনের সিটে বসে থাকা একজন সেনা অফিসার চোখের ইশারা করলে একজন রাজাকার ছুটে যায় মালতীর সামনে
‘কই থিকা আইছো ?’
ভয়ে মালতীর জিভ শক্ত হয়ে আছে। চেষ্টা করেও মুখ থেকে কোন শব্দ বের হয়না। রাজাকার আবার প্রশ্ন করে
‘কি জিগাই কানে যায়না ? বাড়ি কি এই গ্রামে ?’
মালতী কেবল না সূচক মাথা নাড়ায়। মুখে কিছু বলেনা। বুকের সাথে অনুকে জোড়ে চেপে ধরে। অনু ভয় পেয়ে মায়ের বুকের সাথে সিটকে আছে। রাজাকার জিপে বসে থাকা অফিসারের কাছে গিয়ে উর্দুতে কিছু বলে। অফিসার প্রতিউত্তরে রাজাকারকে কিছু বলে। মালতী ওদের কথা বুঝতে পারেনা। রাজাকার আবার এগিয়ে আসে
‘কই যাইতাছো ? নাম কি ?’
মালতী রাজাকারের দিকে অসহায়ভাবে তাকিয়ে থাকে। রাজাকার এবার গলা চড়ায় প্রায় চিৎকার দেয়
‘নাম কি তোর ?’
আঁতকে ওঠে মালতী। আস্তে করে জবাব দেয়
‘মালতী’
রাজাকারের মুখে একটা হাসির রেখা ভেসে ওঠে দ্রুত জিপে থাকা পাকিস্তানী অফিসারের কাছে যায়। আবার কিছু বলে। মাধবী এবারও বুঝতে পারেনা তবে রাকাকার যে ‘হিন্দু কাফের হুজুর’ বলে এইটুকুই বুঝতে পারে মালতী।
এরপর খুব বেশি হলে তিনমিনিট সময়ের মধ্যেই মালতী নিজেকে আবিষ্কার করে রাস্তার পাশের একটা আধ ভাঙ্গা দোকান ঘরের মধ্যে। মালতীকে মাটিতে ফেলে পেটের উপর চেপে বসে আছে একজন রাজাকার। আরেকজন পাকসেনা মালতীর গলার কাছে রাইফেলের বাট ঠেকিয়ে রেখেছে। সামান্য দূর থেকে ভেসে আসছে অনুর চিৎকার। মালতী ভাঙ্গা বেড়ার ফাঁকা দিয়ে দেখতে পায় একজন রাকাজার মুখ চেপে ধরে রেখেছে অনুর। এমন সময় দোকান ঘরে প্রবেশ করে জিপের সামনের সিটে বসে থাকা সেনা অফিসার। সেনা অফিসার ঘরে ঢোকার সাথে সাথে রাজাকার মালতীর পেটের উপর থেকে লাফ দিয়ে সরে যায়। অফিসারের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বেড়িয়ে যায়। মালতী চিৎকার করে উঠতে নিলেই মাথার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা পাকসেনা রাইফেলের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। কয়েক ন্যানো সেকেন্ড মালতী চোখে অন্ধকার দেখে। তারপর আর কিছুই দেখেনা। জ্ঞান হারায় মালতী। প্রথমে সেনা অফিসার ধর্ষণ করে তারপর আসে পাকসেনা। পাকসেনার পরে একে একে রাজাকার দুজন এসে ধর্ষণ করে মালতীকে। মালতীর জ্ঞান ফিরে আসে মূলত শেষ রাজাকার ধর্ষণ করার সময়ে। ধর্ষণ শেষে সবাই গিয়ে জিপে ওঠে। মালতী বিড়বিড় করে ‘অনু অনু অনু কই’ বলতে বলতে মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে দোকান ঘরের দরজার কাছে আসে
এমন সময় রাজাকার গিয়ে অফিসারকে কিছু একটা বলে। অফিসার আর সময় নেয়না। মালতী দোকান ঘর থেকে মাত্র মাথাটা বের করে অন্ধকারে চারদিকে চোখ মেলে অনুকে খুঁজতে যাবে এমন সময় একটা গুলি এসে ঢুকে যায় ঠিক মাথার তালুতে। তারপর আরেকটা। শরীরটা দুবার কেঁপে ওঠে মালতীর। আর কাঁপেনা। জিপটা চলে যায়। একটু দূরে মাটিতে বসে ছিলো অনু। অনেকক্ষণ মুখ চেপে রাখার পর অনু নিজ থেকেই ভয়ে চুপ হয়ে যায়। ওভাবেই মাটিতে বসে ছিলো। জিপ চলে যেতে দেখে আস্তে আস্তে উঠে মায়ের কাছে আসে। মালতীর শরীর ধরে ধাক্কা দেয়
‘মা এ মা হেরা গেছেগা… এ মা ওডো … মা’
মালতীর সাড়াশব্দ না পেয়ে এক সময় বুঝতে রক্ত হাতে লাগলে অনু বুঝতে পারে যে ওর মা মরে গেছে। যুদ্ধ অনুকে আগের অনেক মৃত্যুর সামনে দাড় করিয়েছে। তাই এই বয়সেই মৃত্যুকে চিনতে ও ভুল করেনা।
ঘটনাটা এতোক্ষন আমার বন্ধুটি খুব মন দিয়ে শুনছিলো। এই পর্যায়ে এসে বললো
‘আল্লাহই রক্ষাকর্তা’
‘কিভাবে ?’ আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম। আমার বন্ধুটি তৃপ্তির সুরে বললো
‘এই যে অবুঝ বাচ্চাটারে বাঁচিয়ে দিলো’
আমি কয়েক মুহুর্ত বন্ধুটির দিকে চেয়ে থাকলাম। তারপর আবার ঘটনাটা বলতে শুরু করলাম
তারপর অনু একা পড়ে রইলো বিস্তীর্ণ জনশূন্য ভূমির একপ্রান্তে রাস্তার পাশে ওর মায়ের লাশের পাশে। অনেকক্ষণ কাঁদতে কাঁদতে একসময় ক্লান্ত হয়ে মায়ের লাশের উপরেই মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে অনু। মধ্য রাতের দিকে অনুর আবার কান্না পায়। চিৎকার করে কাঁদে। কাঁদতে কাঁদতে আবার ক্লান্ত হয়ে যায়। এভাবেই ভোর হয় সেদিন। আলো দেখে অনু আশা করে কোথাও মানুষ পাবে। কিন্তু ওটা মূলত বর্ডারের কাছের একটা গ্রাম। দের কিলোমিটার দূরেই ছিলো বর্ডার। পুরো গ্রাম পাক বাহিনী জ্বালিয়ে দিয়ে গেছে আরো কদিন আগেই। গ্রামের বেশীরভাগ পুরুষকে হত্যা করে নারীদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পাকিস্থানী ক্যাম্পে। বাকিরা বর্ডার পাড় হয়ে পালিয়েছে। এখানে জনমানুষের কোন চিনহ নেই। পরেরদিন দুপুর পর্যন্ত এভাবেই ক্ষুধায় কান্নায় ক্লান্ত ছোট্ট শরীরের অনু মায়ের শরীরটা আঁকড়ে বসে থাকে। অনুর পাশাপাশি মালতীর শরীর আঁকড়ে ধরতে শুরু করে অজস্র মাছি। অনু ছোট্ট হাত দুটো দিয়ে মাছিগুলোকে মায়ের শরীর থেকে তাড়াতে চেষ্টা করে। মাকে ছাড়া ওর চেনা কিছু নেই এই প্রান্তরে। দুপুরের রোদে অনু কান্নার শক্তি হারিয়ে ফেলে। ক্ষুধায় কাতর অনু মাটি থেকে তুলে কিছু ঘাস চিবায়। ওর মায়ের দিয়ে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই চোখ পড়ে ওর মায়ের বুকের দিকে। যদিও অনেক আগেই মায়ের দুধ খাওয়া ছেড়েছে অনু। হামাগুড়ি দিয়ে অনু এগিয়ে যায় মায়ের কাছে। হাত দিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে মায়ের একটা স্তন নিজের মুখে পুরে নেয়। দুধ খাবে বলে টান দিতেই কালচে রক্তের সাথে কিছুটা পচে যাওয়া মায়ের বুকের চামড়া উঠে আসে অনুর মুখে। মালতীর পচে যাওয়া মাংসের গন্ধে বমি করে দেয় অনু। পেটে কিছুই না থাকায় কিছু ঘোলাটে পানি বেড়িয়ে আসে অনুর গলা দিয়ে। অনেকক্ষণ পর অনু আবার চিৎকার করে কেঁদে ওঠে।
এমন সময় দূর থেকে একটা পাকিস্থানী জিপ আসতে দেখা যায়। জিপ আসতে দেখে অনু চিৎকার থামিয়ে মায়ের শরীরটাকে জড়িয়ে ধরে রাখে। এখন আর অনুর নাকে গন্ধ লাগেনা। জিপটা এসে একটু দূরে দাঁড়ায়। জিপটা দাঁড়াতেই আবার কাঁদতে শুরু করে অনু। জিপের দিকে তাকিয়ে দুই হাত নাড়তে থাকে। আর বলতে থাকে
‘আমার মা মইরা গেছে, আমার মায়রে আর মাইর না… আমার মায় মইরা গেছে…’
জিপ থেকে পাকবাহিনীর কেউই আর মাটিতে নামেনা। অনুর কথা শুনে থমকে যায়। জিপটা চলে যায়। যাবার সময় দুইটা বুলেট রেখে যায় অনুর বুকে। না না দুইটাই বুকে লাগেনি। একটা লেগেছিলো চোখে। মায়ের উপরেই আচমকা দুইটা কাঁপুনি দিয়ে স্থির হয়ে যায় ছোট্ট শরীরটা।
ঘটনাটা এই পর্যন্ত বলে আমি আমার বন্ধুর দিকে তাকালাম
‘কি রে কিছু বল’
‘কি বলমু ?’ বন্ধুটি হতভম্ব হয়ে জানতে চাইলো। আমি বললাম
‘আল্লাহ যা করে মানুষের ভালোর জন্যই করে’
‘এই কথা বললি কেন?’
আমি বন্ধুটির দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললাম
‘ওই পরিস্থিতিতে আল্লাহরও ক্ষমতা ছিলোনা অনুর জন্য মৃত্যুর চেয়ে ভালো কিছু উপহার দেয়ার’

Leave a Reply

Your email address will not be published.